কেন?

আমাদের কিছু বিশ্বাস শক্তি যোগায়, অধিকাংশই শক্তিকে রোধ করে! কিছু সংস্কার অস্তিত্বের কথা বলে, অধিকাংশই কুপমুণ্ডূককরে তোলে। কিছু ধারণা পথনির্দেশ করে, অধিকাংশই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। কিছু বিষয়ে আমাদের জ্ঞান পর্যাপ্ত ও অধিকাংশ বিষয়েই আমরা জানিনা। জানা ও না জানার মধ্যে উপযুক্ত সেতুবন্ধন এনে দেয় আত্মপ্রকাশের। আত্মপ্রকাশ না ঘটলে আত্মমূল্যায়ন হয় না। আর তাই নিজে জেগে উঠতে এবং জাগাতেই আলোকবর্তিকা-হ্যাপি সায়েন্স এর যাত্রা শুরু।

বছর আসে, বছর যায়, শুধু ক্যালেন্ডার পাতায় নয়, পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে ঘরে-বাইরে সর্বত্রই। আজকাল ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পেশাগত সবখানেই ঘটছে তুমুল পরিবর্তন আর পরিবর্তন আনার যুদ্ধ। ক্লান্তিহীন ছুটে চলা মানুষের। কেউ হারতে চায় না। লক্ষ্যে পৌঁছুতে না পারাকেও আজকাল মানুষ খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। আক্ষরিক অর্থেই মানুষ অসফল হওয়া বা ব্যর্থতাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে রাখে। সুতরাং কেউ হারে না। হার শব্দটাই হারিয়ে যাচ্ছে। তাতে ক্ষতির কিছু নেই। ক্ষতি হচ্ছে ইচ্ছা শক্তি, ক্ষমতা আর উদ্যমের। চাপে পড়ছে মন।

মানুষের মন একটা বাগানের মত, যেখানে ফুলের চাষ না করলে আগাছা জন্মাবেই। আপনি যদি সচেতনভাবে ইতিবাচক চিন্তার চাষ না করেন তাহলে নেতিবাচক চিন্তা দখল করে নিবে আপনার মন।

ঘরদুয়ার শুধু নয়, পৃথিবীর চরিত্রই বদলে যাচ্ছে মল্লযুদ্ধ থেকে পরিবর্তিত হতে হতেই পিস্তল-রাইফেল-ট্যাংক- কামান-নিউক্লিয়ার বোমা ঘুরে এখন চলছে মনে মনে যুদ্ধ। কূটনৈতিক তৎপরতা। বুদ্ধির খেলা। সেই খেলার বাজি তরুণরাই। তাদের শক্তি ক্ষিপ্রতা আর ইচ্ছা ব্যবহৃত হচ্ছে যথেচ্ছ। ভালো কাজ, মন্দ কাজ সবখানে। রাজনীতি-বাণিজ্য-সামাজিক যেকোনো প্রয়োজনে তরুণরা ছুটে চলছে প্রয়োজন মতোই। অতি ব্যবহারে ক্ষয়ে পড়ার শঙ্কা বা আশঙ্কা যেমন আছে বিভিন্ন নীতি কিংবা দুর্নীতি, আছে কৌশল। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় তারা আছে আগে-পিছনে কিংবা ফাঁদে। ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক কিংবা সার্বিক এই পরিবর্তনের ভিতর, তরুণরা তারুণ্য নিয়ে টগবগ করে এগিয়ে যাবে। এই প্রত্যশা থেকে আলোকবর্তিকা-হ্যাপি সায়েন্স।

মনের শুদ্ধতাই সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে

আধুনিক জীবনের অন্তহীন প্রতিযোগিতায় আমরা প্রতিনিয়ত দৌঁড়াচ্ছি এক অসম্ভব অলিক সুখের পিছনে। ফলাফল-ক্লান্তি, অবসন্নতা, দুশ্চিন্তা এবং বিষন্নতা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলেন দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকলে এগুলি একসময় শারিরীক-মানসিক নানা দুরারোগ্য ব্যাধি রূপে দেখা দিতে পারে। রোগের সাথে টেনশনের যোগাযোগ তো এখন প্রমাণিত। এছাড়াও ক্রমাগত দুঃশ্চিন্তা ও হতাশায় শরীরের ইমিউন সিষ্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে, কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাই টেনশনের আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে আলোকবর্তিকা-হ্যাপি সায়েন্স।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস সর্বোচ্চ ২০০ বছরের, কিন্তু পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব ও বসবাসের ইতিহাস হাজার বছরের। এতেই প্রমাণিত হয় যে, বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি ছাড়াও অতীতে মানুষ বেঁচে ছিল এবং থাকা সম্ভব। চিরস্থায়ীভাবে ওষুধ-নির্ভরতা কখনোই সুস্থতার লক্ষণ নয়, মনের শুদ্ধতাই সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে।

প্রজন্মকে ফেরাতে হবে আলোর পথে

নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পারিবারিক-বন্ধন ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে যান্ত্রিক জীবনে বাড়ছে অস্থিরতা ও হতাশা। একবিংশ শতকের সামাজিক প্রেক্ষাপটে “সম্পর্ক’’এর ধ্যানধারনা বাঙালি নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। কি ধনবান, কি সাধারণ খেটে খাওয়া, নিম্নমধ্যবিত্ত গন্ডিতে বা গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় থাকা পরিবার, সবখানে অস্থিরতা এক-দুই যুগ আগেও মানুষের আশা-আনন্দ-বিনোদনের কেন্দ্র জুড়ে ছিল পরিবার। এখন পারিবারিক সম্পর্কগুলো খুব ঠুনকো, খুব অনাত্মীয়ধর্মী। বাবা-মায়েদের মানসিক উদ্বেগ আর টানাপোড়নে সন্তান খুনসহ সাংঘাতিক সব ঘটনা ঘটছে সেগুলোর একটা বড় কারণ অতি চাওয়া। চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে ব্যবধান- কেবল হতাশা সৃষ্টিই করে না এই ব্যবধান থেকে তৈরী হয়- ক্ষোভ, ক্রোধ, হিংসা, প্রতিহিংসা ইত্যাদি। এই ব্যবধান তৈরী হয় কিভাবে? এর কারন মানুষের লোভ। আর এই লোভ- আমাদের সমাজে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। আপনাকে প্রতি মুহূর্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হয় যে-আপনার যতো বেশী থাকবে; আপনার ততো বেশী সুখ। চারিদিকে বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। কীভাবে আমরা এ থেকে বেরিয়ে আসবো সেটা জানতে হলে যুক্ত হোন আলোকবর্তিকা হ্যাপি সায়েন্স কার্যক্রমে।